বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে
বিএনপি ৪৭ বছরে পা দিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করা দলটি এখন এক নতুন যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ১৫ বছরের কঠিন সংগ্রামের পর শেখ হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক এবং মাফিয়াবাদী শাসনতন্ত্র উৎখাতের মধ্যে দলটি এবং দলের নেতাকর্মীরা অনেক দিন পর একটু স্বস্তির জায়গায় পৌঁছেছে। আসন্ন নির্বাচনে জিতলে আবারও দলটির নতুনভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব (যার সুযোগ নিতে আমরা এত দিন চরমভাবে ব্যর্থ), আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের নতুন যুগ, দেশের পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য যেই ক্ষমতায় আসুক, তাকে দায়িত্ব নিতেই হবে। আর সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও মানুষ এখন পর্যন্ত মনে করছে—বিএনপিই ক্ষমতায় আসবে।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি আমাদের দিয়েছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। আমরা এখন জোর গলায় বলতে পারি, আমরা বাংলাদেশপন্থী মানুষ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমাদের দেশে শুধু বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী দলগুলোই আছে, যার শুরুটা বিএনপির হাত দিয়েই। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরত যাওয়ার মতো পুরো ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন হয়েছিল বিএনপির হাত দিয়েই। আসলে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন বা সংস্কারগুলো এখন পর্যন্ত বিএনপির হাত দিয়েই হয়েছে।
বাকশালের পর বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফেরত এনেছিল বিএনপিই। এরপর এনেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। অনেক নতুন জিনিস এসেছিল বিএনপির হাত দিয়েই। যেমন ভ্যাট ব্যবস্থা প্রবর্তন। বাংলাদেশের আয় এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এই আইন।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যখন দেশের সবার চাহিদা মেটাতে পারছিল না, ১৯৯৪ সালে দেওয়া হলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি। খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা বা মেয়েদের মাধ্যমিকে বৃত্তি এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনেছে। নিজেদের মেয়র দেওয়ার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও দলটি ১৯৯৪ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে মেয়র নিয়োগের আইন করে। ২০০৪ সালের সাফটা চুক্তি বাস্তবায়ন হলে পুরো সাফই এখন অন্য রকম থাকত। যে নারী ফুটবল নিয়ে এত কথা, তারও শুরু বিএনপির আমলে।
বাংলাদেশ তার রাজনীতিতে এখনো একজন জিয়াউর রহমানকে খুঁজে বেড়ায়। স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে নিজের মৃত্যু পরোয়ানা ঘোষণা করা, যুদ্ধে আহত হওয়া—বাংলাদেশের একমাত্র সেনা অফিসার, যিনি দুই দেশের জীবিতদের মধ্যে একমাত্র সর্বোচ্চ খেতাবধারী ছিলেন।
খাল খনন এবং আধুনিক কৃষিব্যবস্থা প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের আমদানি তিন ভাগের দুই ভাগ কমিয়ে এনেছিলেন। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কথাও তাঁর মাথা থেকে আসে, যা এখন চরমভাবে ব্যর্থ। গার্মেন্টস দিয়ে দেশের পুরো অর্থনীতির মোড় ঘোরানোর শুরু তাঁর হাতে। আবার ছিলেন সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা। শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট রেজিম জিয়ার চরিত্রহননের বহু গল্প বানালেও তাঁর সততাকে কখনোই প্রশ্ন করতে পারেনি।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর একজন গৃহিণী বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেন। সেই খালেদা জিয়াই এখন বাংলাদেশের ঐক্যের প্রতীক। তাঁর আপসহীন এবং হার না মানা চিন্তাভাবনা থেকে দেশের মানুষের অনেক কিছু শেখার আছে। তাঁর শাসনামলের প্রধান লক্ষ্যই ছিল দেশকে শিক্ষা এবং অর্থনীতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা।
আওয়ামী লীগ যে এত উন্নয়ন বাজেটের টাকা পেয়েছিল, তা ছিল ২০০৪–এর এনবিআর সংস্কারের ফল। সেই সময় ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৬৫, যা এখন শুধু স্বপ্নই মনে হয়। ভারতের রুপির সঙ্গে টাকার মূল্যমানও তখন প্রায় সমান হয়ে গিয়েছিল।
0 মন্তব্যসমূহ